
নাগেশ্বরী
নাগেশ্বরী উপজেলা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার একটি সুসজ্জিত এলাকা বা উপজেলা। নামকরণ নাগেশ্বরী বিলের নাম অনুযায়ী এই এলাকার নাম হয় নাগেশ্বরী। এই বিলের নামকরণ নিয়ে দুটি মত প্রচলিত আছে। কথিত আছে, নাগেশ্বরী বিলের তীরে অবস্থিত মন্দিরে দুর-দুরান্ত থেকে নাগা সন্ন্যাসীরা এসে পূজা দিত; এ থেকে এ বিলের নাম হয় নাগেশ্বরী। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এ বিলে বিভিন্ন প্রজাতির নাগ বা সাপ যেমন- শীষ নাগ, কাল নাগ, পঙ্খীরাজ নাগ, দুধ নাগ ইত্যাদি থাকতো; তাই এ বিলের নাম নাগেশ্বরী। অন্য এক দল গবেষকের মতে, হিন্দোস্তানী আমলে এই অঞ্চলে অনেক সরাইখানা ছিল৷ তখন সে এলাকাটি নাজিহ-ই-সরায় نازحِ سرائے বা পরিব্রাজকদের বিশ্রামস্থল নামে সুপরিচিত ছিল৷ বৃটিশ শাসনামলে সে নামটি নাগেশ্বরী নামে পরিবর্তিত/বিকৃত হয়৷ অবস্থান ও আয়তন ৪১৫.৮০ বঃকিঃমি আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, পূর্বে ভারতের আসাম, পশ্চিমে ফুলবাড়ী উপজেলা। এই উপজেলা ২৫ ডিগ্রি ৫১ উত্তর অক্ষাংশ ও ২৬ ডিগ্রি ০৪ দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত এবং ৮৯ ডিগ্রি ০৬ ও ৮৯ ডিগ্রি ৫৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ইতিহাস ও পটভূমি জানা যায়, এক সময় এ অঞ্চল প্রাচীন কামরুপ বা প্রাক জ্যোতিষপুর রাজ্যের অধীনে ছিল। ১২০৬ সালে গৌড়ের শাসনকর্তা গিয়াস উদ্দিন খিলজী কামরুপ দখল করে নেন। এ সময় ব্রক্ষ্মপুত্র নদের উপত্যকা অর্থাৎ পুরো নাগেশ্বরী তাঁর অধীনে চলে যায়। এদিকে বাদশা মোহাম্মদ শাহ'র আদেশে তাঁর ভাগ্নে মালিক খসরু কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে চীন বিজয়ের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। কিন্তু অতিবৃষ্টি, দুর্গম পথ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে বিপক্ষ দলের আক্রমনের শিকার হয়ে এক লক্ষ অশ্বারোহী বাহিনী থাকা সত্বেও তিনি বিফল হয়ে ফিরে আস… এর অন্তর্গত 14টি ইউনিয়নসমূহ: বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, ভিতরবন্দ, বল্লভেরখাস, হাসনাবাদ, কঁচাকাঁটা, কালীগঞ্জ, কেদার, নারায়নপুর, নেওয়াশী, নুনখাওয়া, রায়গঞ্জ, রামখানা, সন্তোষপুর.






